শরিফ ওসমান হাদির বীরত্ব ও তারেক রহমানের স্মৃতিচারণ

রাজধানী ঢাকা-র ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশালাকার ও ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম অদম্য সদস্য শরিফ ওসমান হাদিকে ‘চব্বিশের আন্দোলনের সাহসী সদস্য’ এবং ‘প্রজন্মের সাহসী মুখ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারেক রহমান গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “মাত্র কয়েকদিন আগে আমাদের এই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক চব্বিশের আন্দোলনের এক অত্যন্ত সাহসী সদস্য এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ওসমান হাদিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন এবং তার এই অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগ এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। ওসমান হাদির মহান স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এই দেশে যেন স্বৈরাচার ও অপশাসনের অবসান ঘটে, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি নাগরিক যেন তাদের মৌলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার

বিএনপি-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চব্বিশের গণআন্দোলনে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সেই মহান আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছিলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের শাসনকালে যারা গুম, খুন ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তাদের সবার রক্তের ঋণ শোধ করা আমাদের পবিত্র জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “যদি আমাদের এই বীর শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হয়, তবে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।” তিনি এমন একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে, সবাই একসঙ্গে জাতীয় অগ্রগতির জন্য কাজ করবে এবং একটি শক্ত গণতান্ত্রিক ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হবে।

আধিপত্যবাদী চক্রান্ত মোকাবিলা ও তরুণ প্রজন্মের ঐতিহাসিক দায়িত্ব

দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে চরম সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন যে, বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির চক্রান্তকারী ও গুপ্তচররা এখনো নানা উপায়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই গভীর সংকটকালে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদেরকে অত্যন্ত ধৈর্যশীল হতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের ধৈর্য ধরে রাখতে হবে।” বিশেষ করে দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্বের হাল ধরার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সকল সদস্য আছো, তোমরাই আগামী দিনে এই দেশকে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দেশকে সুসংগঠিতভাবে গড়ে তুলবে।” তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দায়িত্ব আজ তরুণদেরই নিজেদের কাঁধে গ্রহণ করতে হবে, যাতে দেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়।

ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা, দেশের শান্তি রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য

মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শের কথা স্মরণ করে বিএনপি-র এই শীর্ষ নেতা অঙ্গীকার করেন যে, আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার মহান দায়িত্বে আসবেন, তারা সকলেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত ন্যায়পরায়ণতা, সুশাসন ও ইনসাফের আলোর নীতি অনুসরণ করে দেশ পরিচালনা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়া যদি দেশের মানুষের ওপর থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। পরিশেষে, উসকানির বিরুদ্ধে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে, কারণ আমরা দেশে স্থায়িত্ব ও শান্তি চাই।”

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #তারেক_রহমান #গণতন্ত্র #জাতীয়তাবাদ