তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশের পথে যাত্রা শুরু

দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন ও সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ-এ ফিরে আসার উদ্দেশ্যে লন্ডন-এর হিথ্রো বিমানবন্দরে সফলভাবে পৌঁছেছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক ও আবেগঘন এই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে তার সঙ্গে পরম সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং প্রিয় কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন, যেখানে তাদেরকে শুভকামনা ও বিদায় জানাতে যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি-র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অগণিত উৎসুক কর্মী-সমর্থক সমবেত হন। সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সমগ্র বিমানবন্দর এলাকা এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে পরিণত হয়।

যাত্রার চূড়ান্ত সময়সূচি, ফ্লাইটের বিবরণ ও বিশিষ্ট সফরসঙ্গীদের তথ্য

দলীয় দলীয় সূত্র ও ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে তিনি দেশের উদ্দেশ্যে তার যাত্রা পরিচালনা করছেন। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার মডেলের বিশেষ এই উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে লন্ডন থেকে ঢাকা-র অভিমুখে রওনা দেবে। সার্বিক সময়সূচি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকা-র হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবতরণ করবে। তবে রাজধানীতে চূড়ান্ত অবতরণের পূর্বে উড়োজাহাজটি সিলেট-এর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি সম্পন্ন করবে।

বিশেষ এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ছাড়া আরও পাঁচজন সফরসঙ্গীর আসন চূড়ান্ত করা হয়েছে। সফরসঙ্গীদের দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ সালেহ, একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানি এবং রাজনৈতিক সহযোগী তাবাসসুম ফারহানা। উক্ত ফ্লাইটের আসনগুলোর মোট ক্রয়মূল্য ৯ হাজার ৮৫৬ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া দলের স্থায়ী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত অসংখ্য নেতাকর্মী নিজ উদ্যোগে টিকিট কেটে একই ফ্লাইটে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক যাত্রার পথসঙ্গী হয়েছেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও ঢাকায় পৌঁছানোর পর পরবর্তী দিনপঞ্জি

রাজধানীর গুলশান-এ অবস্থিত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সফরসূচির বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে বলেন, “আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশের মাটিতে পৌঁছানোর পর তাকে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।” পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি সরাসরি চলে যাবেন পূর্বনির্ধারিত তিনশো ফিট সংবর্ধনা এলাকায়। সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশ্যে তিনি দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত ভাষণ প্রদান করবেন। উক্ত ঐতিহাসিক সমাবেশে তিনি একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

সংবর্ধনা সভা সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি সরাসরি গমন করবেন এভারকেয়ার হাসপাতাল-এর উদ্দেশ্যে। সেখানে চিকিৎসাধীন তার পরম শ্রদ্ধেয় অসুস্থ মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এবং তার শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেবেন। মাতাকে দর্শনের আবেগঘন মুহূর্ত শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরে যাবেন। দীর্ঘ বছর পর তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসীম উদ্দীপনা, গভীর আনন্দ ও ব্যাপক রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

#তারেক_রহমান #বিএনপি #স্বদেশ_প্রত্যাবর্তন #বাংলাদেশ_রাজনীতি