তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: সিলেটে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করার নির্দেশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার স্বদেশ ভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। এই বহুল প্রতীক্ষিত ও তাৎপর্যপূর্ণ আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এবং দলীয় অনুসারীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল সুগম করা এবং বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা ও সাংগঠনিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

গুলশানে সংবাদ সম্মেলন ও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত

গুলশানস্থ চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিষদ সংবাদ ব্রিফিংকালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ সাংগঠনিক নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অংশ হিসেবে তারেক রহমানকে বহনকারী যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে আসা আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার ফ্লাইটটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। তবে ভ্রমণের ট্রানজিট পথ হিসেবে বিমানটি প্রথম পর্যায়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অবতরণ করবে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব গন্তব্যস্থল ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে।

বিমানবন্দর এলাকায় শৃঙ্খলার বার্তা ও সমন্বিত প্রস্তুতি

এই সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির চরম আবেগঘন মুহূর্তে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অসংৃঙ্খলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য উচ্চপর্যায়ের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রিজভী জোর দিয়ে উল্লেখ করে বলেছেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্মানজনক আগমনকে স্বতঃস্ফূর্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।” তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগর শাখা সহ দলের মূল সংগঠন এবং এর অন্তর্ভুক্ত সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী সেখানে সমবেত হয়ে জনসমাগম বা কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না করেন।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয় যে, প্রিয় নেতাকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানোর স্বাভাবিক তীব্র আকাঙ্ক্ষা সর্বস্তরের কর্মীদের মাঝে থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়ম-কানুন মেনে চলার মানসিকতা প্রদর্শন করাই হবে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সর্বোত্তম উপায়। বিএনপি মনে করে যে, বিমানবন্দর একটি অতি সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। তাই সেখানে যাত্রীসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল অক্ষুণ্ণ রাখা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের সুবিধার্থে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ সিলেট অঞ্চলের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে ধৈর্য ধারণ করার এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্দেশনাবলী নিখুঁতভাবে অনুসরণ করার জোরালো আহ্বান জানান। সর্বস্তরের জনগণের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত সচেষ্টতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ