জাতীয় সংসদ নির্বাচন: শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দিল বিএনপি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা ও নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নির্বাচনী দৌড়ে দীর্ঘদিনের রাজপথের মিত্রদের সাথে একাত্মতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সাতজন প্রার্থীর জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আসন আনুষ্ঠানিকভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঐতিহাসিক আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুদৃঢ় ঐক্য এবং গভীর রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
যেসব আসনে সমঝোতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মান জানিয়ে এবং নির্বাচনী সম্ভাবনা বিবেচনা করে নির্ধারিত আসন বণ্টন করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর শীর্ষ নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে, নড়াইল-২ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-র সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। একইসঙ্গে যশোর-৫ আসনটি ছাড় দেওয়া হয়েছে ঐক্যজোট-এর মনোনীত প্রার্থী মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ-এর অন্যতম প্রধান নেতা রাশেদ খাঁন। রাজধানী অঞ্চলের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি-র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ-এর সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে লড়বেন গণসংহতি আন্দোলন-এর মুখ্য সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের হারিয়ে যাওয়া সর্বজনীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা, জনগণের মৌলিক বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সুনিশ্চিত করা।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই রাজনৈতিক আসন সমঝোতা রাজপথের আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দাবি আদায়ের সংগ্রামকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের যৌথ আন্দোলন ও পারস্পরিক আস্থার কারণেই এই পারস্পরিক আসন বন্টন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হতে পেরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগ নির্বাচনী মাঠে তাদের সম্মিলিত অবস্থানকে অনেক বেশি শক্ত ও সুসংহত করবে। আসন বন্টনের এই ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের সমর্থন ও সম্মতি ব্যক্ত করেন। বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করছেন যে, জনগণ এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক চিত্রে একটি ইতিবাচক ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন সূচিত হবে।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ