নির্বাচনী আসন সমঝোতা: গণঅধিকার পরিষদকে দুটি আসন ছেড়ে দিল বিএনপি
গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণঅধিকার পরিষদ-এর শীর্ষ দুই নেতাকে দুটি পৃথক সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আসন সমঝোতার আওতায় গণঅধিকার পরিষদ-এর আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এবং দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন। দলটির শীর্ষ দুই নেতার জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকাগুলো হলো পটুয়াখালী-৩ এবং ঝিনাইদহ-৪। রাজপথের যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিরোধীদের ঐক্য জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থার নতুন ভিত্তি
বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুদৃঢ় ঐক্য ও পারস্পরিক গভীর বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই অত্যন্ত সফলভাবে এই আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।” দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের সমঝোতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়ের উপযোগী রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ও দেশে একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিরোধীদের এই সম্মিলিত পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আন্দোলনরত বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে নিয়ে পথচলাই তাদের মূল লক্ষ্য, যেন সকল বিরোধী রাজনৈতিক অংশীদারদের প্রতিনিধি হিসেবে সঠিক প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করে আনা সম্ভব হয়। এই সমঝোতা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও বেশ বড় ভূমিকা রাখবে।
অন্যান্য মিত্র দল ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন বণ্টন
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট আসনের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো পিরোজপুর-১ আসন, যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-র জ্যেষ্ঠ নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারকে। একইভাবে নড়াইল-২ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-র অন্যতম শীর্ষ প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। জোটের এই রাজনৈতিক সমীকরণে বেশ কিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য নতুন শক্তিকেও যথাযথভাবে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিভিন্ন শরিক দলের প্রার্থিতা ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
এ ছাড়াও যশোর-৫ আসনটিতে ঐক্যজোট-এর মনোনীত শক্ত প্রার্থী মুফতি রশিদকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত সংসদীয় এলাকা ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি-র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন গণসংহতি আন্দোলন-এর অন্যতম শীর্ষ পরিচিত নেতা জোনায়েদ সাকি। এই সকল শরিক প্রার্থীদের জয়ী করতে সমন্বিত নির্বাচনী প্রচার চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক জোটের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপি-র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রবীণ সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অভিজ্ঞ রাজনীতিক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদানকারী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. রেদোয়ান আহমেদ বিশেষভাবে নজর কাড়েন এবং তিনিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই যৌথ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ