ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বার্ষিক আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা-র বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজন করা হবে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশাল সম্মেলনে অংশ নেবেন সারা দেশ থেকে আগত ছাত্রশিবিরের নিবন্ধিত সকল সদস্য। এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের জন্য সংগঠনের নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন করা এবং নতুন সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত করা। সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংগঠনের প্রচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন ও অতিথিদের উপস্থিতি

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা ঘটবে। প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করবেন সংগঠনের বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এরপর বক্তব্য রাখবেন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, ইসলামী গবেষক এবং বিজ্ঞ চিন্তাবিদগণ। তারা দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করবেন। প্রথম অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ সমাজকে নৈতিকতা, শিক্ষা ও আদর্শের পথে উদ্বুদ্ধ করা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করার পর বেলা ১টায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হবে।

নেতৃত্ব নির্বাচন ও সমাপনী অধিবেশন

মধ্যাহ্নভোজ ও স্বল্প বিরতির পর দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে সম্মেলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় তথা সমাপনী অধিবেশন। এই অধিবেশনটিতেই সংগঠনের পরবর্তী মেয়াদের জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে পরবর্তী সেক্রেটারি জেনারেলের নাম মনোনয়ন প্রদান করা হবে। নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পর বিদায়ী ও নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ তাদের আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক সমাপনী বক্তব্য রাখবেন। সম্মেলন শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। মোনাজাতের মাধ্যমেই বার্ষিক এই সদস্য সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের আগামী দিনের সাংগঠনিক গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নতুন নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। সারা দেশ থেকে আসা সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্মেলন কেন্দ্রটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকল সদস্যের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক সুবিধার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

#ছাত্রশিবির #বাংলাদেশ #রাজনীতি #সম্মেলন