নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে ইসিতে অভিযোগ ও জামায়াতের দাবি

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আগমন উপলক্ষ্যে ঢাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজপথে টাঙানো ব্যানার ও পোস্টার সরানোর পাশাপাশি ভার্চুয়াল মাধ্যমেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ ও সজাগ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগারগাঁও-এ নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে এক বৈঠক শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন।

সমান সুযোগ ও ডিজিটাল প্রচারণার নীতিমালা

জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় আমিরের নির্দেশে তারা সারাদেশে নিজেদের সকল পোস্টার ও ব্যানার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলেছেন। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে। ম্যানুয়াল ব্যানার-পোস্টারের পাশাপাশি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তারা অবিলম্বে এসব অবৈধ প্রচারণা অপসারণ করে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার

নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চালু থাকলে অসাধু ও সন্ত্রাসী চক্রের পক্ষে নির্বাচন পণ্ড করা সম্ভব হবে না বলে জামায়াত নেতারা মনে করেন। এর মাধ্যমে ভোটাররা সম্পূর্ণ ভয়হীন পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কমিশন এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের আহ্বান

সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা-য় এক রাজনৈতিক কর্মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক ট্রমা ও ভীতির সঞ্চার করে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দেশব্যাপী নির্বাচনি সফরের ক্ষেত্রে ভিভিআইপি নিরাপত্তার বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোটি কোটি কার্ড বিতরণ এবং আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে নির্বাচনি আইন ও আচরণের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে জামায়াত। তারা ইসির কাছে এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চলমান প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া আগামী ৩ জানুয়ারি দলের নির্ধারিত জনসভা আচরণবিধি মেনে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়।

#নির্বাচন #বাংলাদেশ #রাজনীতি #সংবাদ