তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: রাজধানীতে বিশাল সংবর্ধনার প্রস্তুতি

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে দেশে ফিরে আসছেন। তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজপথ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য। প্রিয় নেতাকে রাজকীয় ও উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে একটি অত্যন্ত সুদৃশ্য ও বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন।

মঞ্চ নির্মাণ ও নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানা গেছে যে, গত রোববার দুপুর থেকে বিশ্বরোড-পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের নির্দিষ্ট অংশে সুবিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ অত্যন্ত জোরকদমে শুরু করা হয়। দীর্ঘ পরিশ্রমে সফলভাবে এই বিশাল মঞ্চ ও সংলগ্ন আনুষঙ্গিক প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হতে না হতেই দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্তের জেলা ও উপজেলা থেকে আগত শত শত স্বতঃস্ফূর্ত নেতাকর্মী এবং সমর্থক মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। উৎসাহী নেতাকর্মীরা দলীয় ব্যানার, পোস্টার, প্লাকার্ড এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে মুহুর্মুহু স্লোগান দিচ্ছেন। পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ সময় জুড়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে লন্ডন-এ অবস্থান করার পর অবশেষে তিনি মাতৃভূমিতে ফিরে আসছেন। বিশেষ এক ফ্লাইটে সকালে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রিয় নেতার আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে এত বড় আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মঞ্চ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

জনস্রোত ও আবেগঘন নানা কর্মসূচি

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সীমাহীন আবেগ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা এক নিষ্ঠাবান কর্মী অত্যন্ত আবেগপ্লুত হয়ে জানান, “আমাদের প্রিয় নেতাকে দীর্ঘকাল পর চোখের সামনে একনজর দেখার জন্যই খুব ভোরে এখানে চলে এসেছি। কাল বিশাল জনস্রোত নামবে এবং অন্তত ২০ লাখ মানুষ উপস্থিত হবে, তখন হয়তো ভিড়ের কারণে কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন হবে। তাই নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে আমি আজ রাতেই মঞ্চের সামনে অবস্থান করব।”

স্থানীয় অন্যান্য যুবনেতারাও তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি-র আগামীর রাষ্ট্রনায়ককে স্বাগত জানাতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল দিনে মঞ্চে নানামুখী আকর্ষণীয় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের দেশাত্মবোধক গান ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #তারেক_রহমান