নির্বাচন কমিশনের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টির বৈঠক ও তফসিল সংশোধনের দাবি

রাজধানীর আগারগাঁও-এর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ নেতারা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে তফসিলের অন্যান্য দিনগুলো সংশোধনের জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনকে সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার এবং গণভোট নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন দলটির প্রতিনিধিরা।

আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা

বৈঠক শেষে এনসিপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে যেসব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলো যাতে দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, সে বিষয়ে জোর দিতে হবে। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আচরণবিধি মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং কঠোর অবস্থান গণমাধ্যমে প্রদর্শিত হলে জনগণের আস্থা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও এনসিপির অবস্থান

এনসিপি-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “দেশ এখন একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।” নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। তারা অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ নানা চক্রান্তের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়া পণ্ড করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংস্কার প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জোর আহ্বান জানানো হয়।

‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার এবং ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল যখন ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য জোর প্রচারণা চালাচ্ছে, তখন এনসিপি দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। দলটির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মধ্যে এখনো আগের স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগী ও অনুসারীরা ঘাপটি মেরে অবস্থান করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে কমিশনকে নিজেদের সক্ষমতা ও দক্ষতা দ্রুত বাড়াতে হবে। একই সাথে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

নির্বাচনি প্রতীক ও ভবিষ্যৎ জোট কৌশল

নির্বাচনি প্রতীকের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো বড় নির্বাচনি জোট গঠন করাও হয়, তবুও জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের নিজস্ব নিবন্ধিত প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়েই আসন্ন নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দলটি মাঠে থাকবে এবং কোনো অপশক্তিকে সুযোগ দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #জাতীয়নাগরিকপার্টি