তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ৩০০ ফিট এলাকায় উৎসবের আবহ

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশ-এ ফিরছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা-র পূর্বাচল সংলগ্ন ৩০০ ফিট মহাসড়ক এলাকায় এক অভূতপূর্ব, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় শীর্ষ নেতাকে গভীর ভালোবাসা ও সমাদরে বরণ করে নিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে অবস্থান নিয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েও উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। পুরো এলাকা জুড়ে উৎসবের জোয়ার বইছে।

জনসমুদ্রে পরিণত পুরো এলাকা ও উচ্ছ্বসিত পরিবেশ

কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে শুরু করে প্রধান সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত দীর্ঘ বিস্তৃত পথজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্ত অঞ্চল থেকে আসা উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল ও আনন্দঘন স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তুলেছেন। সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীদের মুখে মুখে একটি স্লোগানই সার্বিকভাবে প্রতিধ্বনি হচ্ছে, “লিডার আসছেন”। দূরদূরান্ত থেকে আগত জনস্রোতের সুবিধার্থে স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় খাবার ও পানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে উচ্চশব্দের মাইক ও স্পিকার যুক্ত ট্রাক বসিয়ে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হচ্ছে, যা উপস্থিত প্রতিটি মানুষকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করছে।

সারাদেশ থেকে আগত নেতাকর্মী ও জনমানুষের অনুভূতি

সুদূর রংপুর জেলা থেকে আগত বিএনপি কর্মী রাজু আহমেদ অত্যন্ত আবেগাক্রান্ত হয়ে জানান, “আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের আকুল অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বিগত দিনে নানা কষ্ট, যন্ত্রণা ও বাধা অতিক্রম করে অবশেষে নেতাকে নিজ চোখে দেখার এই সুযোগটি আমাদের জন্য পরম আনন্দের ও গর্বের।” একই ধরনের অনুভূতি ব্যক্ত করে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করেও আমরা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হইনি। আজকের এই ঐতিহাসিক রাতটি আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দময়।” এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী এলাকা থেকে আগত নুর আলম বলেন, ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে তিনি নিজের সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুবিশাল সংবর্ধনা মঞ্চের সার্বিক প্রস্তুতি

বিএনপির শীর্ষ নেতার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ আগমন ও সুবিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে ব্যাপক ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বাহারুল আলম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বহর নিয়ে সরাসরি সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শনে যান। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পুরো এলাকা জুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রধান প্রবেশপথে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এই সংবর্ধনা মঞ্চে আগমন করবেন তারেক রহমান।

নেতার ঐতিহাসিক এই আগমনকে স্মরণীয় করে রাখার তাগিদে ৩০০ ফিট সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সুবিশাল ও দর্শনীয় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। একটানা কঠোর পরিশ্রম করে দক্ষ শ্রমিকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ শেষ করেছেন। দলের অভ্যর্থনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক তদারকি পরিচালনা করেছেন। বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে, এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বিশাল মহাসমাবেশ ঘটবে। দেশের সার্বিক রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এক বিরাট আলোড়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন দেশের কোটি মানুষ।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #তারেক_রহমান