বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ: মির্জা আব্বাসের বক্তব্য
রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক আবেগঘন দোয়ার মাহফিলে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের বিরুদ্ধে চলমান গভীর চক্রান্ত নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মূল ধারার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বিএনপি তথা পুরো দেশের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ও নীল-নকশাকৃত চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এই অপশক্তি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কাছ থেকে সরাসরি মদতপুষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষকে এক চরম অনিশ্চিত ও আশঙ্কাজনক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে অত্যন্ত অপব্যবহার করে ধর্মপ্রাণ জনগণকে চরম বিভ্রান্ত করার পায়তারা করছে। বিশেষ করে দেশের নারী সমাজ তথা মা-বোনদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম
মির্জা আব্বাস তার ঐতিহাসিক বক্তব্যে স্মারক আলোচনা করে বলেন, “আমাদের দলীয় প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন না করতেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি পরম মমতায় সেই গণতন্ত্রকে লালন-পালন ও রক্ষা না করতেন, তবে আজকের দিনে অবাধ নির্বাচনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কখনোই সম্ভব হতো না।” তিনি বিগত দিনের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের সাধারণ মানুষকে একটি মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে বা নিরাপত্তায় থাকতে দেননি। দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা যে অবিরাম রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন, তার ইতিবাচক সুফল অবশেষে সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আমরা বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে জনগণের পবিত্র ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনেছি।” এখন সময় এসেছে সেই অর্জিত ভোটাধিকারকে যথাযথ উপায়ে প্রয়োগ করার। তিনি দেশের সর্বস্তরের রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সকলকে অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। কারণ ইতিহাস প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ হস্তেই বাংলাদেশ-এর গণতন্ত্র সর্বদা নিরাপদ ছিল এবং বিএনপি-র হাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ ছিল।
বর্তমান চক্রান্ত ও সাম্প্রদায়িক শক্তির মারাত্মক রূপ
আলোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শীর্ষস্থানীয় এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার দেওয়া গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও সুশাসনের অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জঘন্য চরম দুঃশাসন ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে। বর্তমানে যখন দেশবাসী আবারো একটি অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাদ অনুভব করতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই আরেকটি কুচক্রী মহল বিএনপির গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা দেশের মানুষকে ধর্মান্ধতার দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে মারাত্মক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। অথচ আজকের এই কঠিন সংকটের দিনে জাতির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার মতো এক আপসহীন যোগ্য অভিভাবককে।
দোয়ার মাহফিলে দলের অপর স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করে জোর দিয়ে সতর্ক করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, দেশে যদি কোনো প্রকার চরমপন্থী বা সাম্প্রদায়িক শক্তি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে তা পূর্বের চরম স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের চেয়েও শতগুণ বেশি ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করবে। এই ক্ষতিকারক অপশক্তিগুলো মূলত বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভেদ তৈরি করে রাজনীতি ঘোলাটে করতে চায়। তবে তিনি গভীরভাবে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ স্বভাবজাতভাবে ধর্মপ্রাণ ও ঈশ্বরভক্ত হলেও তারা কখনোই ধর্মান্ধ কিংবা উগ্র নয়। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই এ দেশের শান্তিকামী মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
#রাজনীতি #বিএনপি #বাংলাদেশ #নির্বাচন