বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর আহ্বান: দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান রক্ষার তাগিদ
ঢাকা-র একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এ অংশ নিয়ে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিল্প-কারখানার সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, গত ১৫ বছরে যারা দেশের অর্থনৈতিক খাত লুটপাট, চুরি এবং ব্যাংক ডাকাতির মাধ্যমে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে অপশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধের নামে যেসব শিল্প-কারখানা হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তার ফলে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ কর্মহীন মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং জীবিকা সংস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সরকারের জরুরি দায়িত্ব ও অর্থনৈতিক রূপরেখা
সম্মেলনে জোর দিয়ে বলা হয় যে, কলকারখানা বন্ধ করে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। বরং বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার কার্যকর পথ খুঁজে বের করাই সরকারের এখনকার সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে এবং খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ অব্যাহত রাখতে শিল্প খাতকে সক্রিয় রাখার বিকল্প নেই।
দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি-র ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলা হয়, এটি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল যা দেশের সংকটময় মুহূর্তে সর্বদা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা “কম কথা, বেশি কাজ”—এই মূল দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং বন্ধ অর্থনীতি (ক্লোজড ইকোনমি) থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে (ওপেন ইকোনমি) রূপান্তরের যে সূচনা করেছিলেন, তা ছিল জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ব্যবসায়ীদের আস্থা গঠন ও টেকসই সংস্কার ব্যবস্থা
অতীতে যখনই এই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই দেশের ম্যাক্রোইকোনমি বা সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। সাধারণ নাগরিক, কৃষক এবং শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন শাসননামলে কখনোই অর্থনীতি ধ্বংসের কোনো অভিযোগ ওঠেনি, বরং দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুদৃঢ় ও আশাব্যঞ্জক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, “ব্যবসায়ীদের প্রতি রাষ্ট্র যদি পূর্ণ আস্থা না রাখে, তবে তারা কীভাবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে?”
কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের যুগোপযোগী সংস্কার
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে দেশের অর্থনৈতিক টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হয়েছিল। দেশের কৃষকদের অত্যন্ত উৎপাদনশীল উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সময়মতো সার, মানসম্মত বীজ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিতে পারলে তারা কৃষি উৎপাদনে আরও বিস্ময়কর সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
এর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল একটি দেশের তরুণ সমাজকে সঠিক মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
#অর্থনীতি #বাংলাদেশ #কর্মসংস্থান #ব্যবসা_বাণিজ্য #রাজনীতি