বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশের ৭৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থাকা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাকর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া ৭৪ জন নেতাকর্মীর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জিয়াউল হাসান স্বপন (জি এস স্বপন), সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া এবং শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আকরাম হোসেনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন কাফরুল থানার অন্তর্গত ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামও এই তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া, শেরপুর জেলাধীন শ্রীবর্দী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম সাইফুল মালেক, শ্রীবর্দী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা (সোনাহার) এবং ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমও রয়েছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তোফাজ, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোশারফ হোসেন (মুসা), সাটুরিয়া উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুন্নি আক্তার এবং মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাজার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম রতন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ঠান্ডু এবং সাবেক সদস্য ইসরাকুল ইসলাম কামালও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। খুলনা ও বরিশাল বিভাগ খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব কায়সার, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান পিয়ারু, সদর থানা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাজেদা খাতুন এবং খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ মসফিকুর হাসান অভির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন শেখ, বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম খান জনি এবং কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেখ আব্দুর রশিদও এই তালিকায় রয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য নাছিম ফারুক খান মিঠুর বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ সিলেট জেলাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাহাদ উদ্দিন সাদ্দাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সেবুল মিয়া, মুমিন খান মুন্না, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব এবং ওসমানীনগর উপজেলা সাবেক বিএনপি নেত্রী মুছলিমা আক্তার চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলাধীন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান এবং হবিগঞ্জ জেলাধীন নবীনগর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আলীম ইয়াছিনীও এই তালিকায় রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন সরাইল উপজেলার অন্তর্গত ৩নং চুন্টা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম শামসুল আলম এবং আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম পারভেজের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য তাহেরা আক্তার মিলিও এই ৭৪ জনের মধ্যে রয়েছেন।