চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেছেন। বুধবার, ২৬ নভেম্বর ভোরে নগরীর তিনপুলের মাথা এলাকায় এই আকস্মিক মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।

মিছিলের বিস্তারিত

জানা গেছে, বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর গোলাম রসুল মার্কেটের সামনে তিনপুলের মাথা এলাকা থেকে এই মিছিলের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে মিছিলটি জুবিলি রোডের দিকে এগিয়ে যায়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া, যা তাদের ব্যানার ও স্লোগানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মিছিলটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও নগরীর ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও

মিছিলটি শেষ হওয়ার পর এর একটি ১ মিনিট ২২ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলকারীরা উচ্চস্বরে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন, যার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দেওয়া স্লোগানগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পুলিশের নজরে আসে।

পুলিশের তৎপরতা ও অভিযান

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তারা সকালে তিনপুলের রাস্তার মাথায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হওয়ার খবর পেয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই মিছিলে কারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওসি আব্দুল করিম বলেন,

“কারা মিছিল করেছে তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে আছে।”

তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই ঝটিকা মিছিলের ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রশাসন এই ধরনের প্রকাশ্য কার্যক্রমকে কঠোর হাতে দমনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বদ্ধপরিকর। নগরীতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।