চট্টগ্রামের পটিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পিপির উচিত ছিল জামিনের বিরোধিতা করা, কিন্তু তিনি তা করেননি। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবুল কাশেমের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তাকে দুটি মামলাতেই জামিন দেন। গাজী সিরাজের অভিযোগ অনুযায়ী, জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন রাজ্জাক এই জামিনের বিরোধিতা করেননি। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফোরকানুল ইসলামও জেলা পিপির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন, যা এই ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। জামিন প্রক্রিয়া ও অভিযোগ তবে, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তার অনুমতি নিয়েই শুনানিতে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এবং আদালতে তাদের বক্তব্যকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জামিন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার এবং এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই। আবুল কাশেম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক, পটিয়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি এবং কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে কাশিয়াইশ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এলাকায় প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। জুলাই আন্দোলনে হামলা, বিস্ফোরণ ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলায় আবুল কাশেম এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। গত ১২ নভেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ১৩ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ, বোমা বিস্ফোরণ ও হামলা-ভাঙচুরের দুটি পৃথক মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ওই দিন পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। এরপর গত ১৭ নভেম্বর আবুল কাশেমের আইনজীবী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিস মামলা করে জামিন আবেদন করেন। ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে জামিন শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, কাশেম চেয়ারম্যানের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। ফলস্বরূপ, মঙ্গলবার একই আদালতে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি জামিন লাভ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, মিস মামলার এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন শুনানি একই মামলার অন্য আসামিদের ক্ষেত্রে হয়নি। তাদের মতে, সাধারণত আওয়ামী লীগপন্থি আসামিদের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের এক মাস পর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, কাশেমের ক্ষেত্রে দ্রুত শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। বিস্ফোরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামির এভাবে দ্রুত জামিন হয় না। এ ধরনের মামলায় অজ্ঞাত আসামিদেরও এক মাস, দেড় মাস পরে জামিন হয়। অথচ কাশেম চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই সপ্তাহও হয়নি। আমরা আদালতে জামিনের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের পিপি জামিনের বিরোধিতা করেননি। তিনি চেয়ার থেকে দাঁড়ানওনি। অথচ আসামির জামিনের বিরোধিতা করা পিপি হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব। পিপির সহযোগিতা না থাকলে এত দ্রুত জামিন শুনানি হওয়ার কথা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ কাশেম চেয়ারম্যানের জামিনের বিষয়ে জেলা পিপির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গাজী মো. সিরাজ।