শিক্ষামন্ত্রীর পুরোনো ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের অভিযোগ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি পুরোনো ছবি বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের তির্যক অভিযোগ এনেছেন মন্ত্রী স্বয়ং। রোববার শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় দাবি করা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
ছবি বিতর্কের মূল প্রেক্ষাপট ও ফেসবুক পোস্ট
শিক্ষামন্ত্রীর পেজ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রচারিত ছবিটি মূলত ২০২৩ সালের ৪ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের রাতের টকশোতে অংশ নেওয়ার ঠিক পূর্বে তোলা হয়েছিল। অথচ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ছবিটিকে নতুন করে উপস্থাপন করে দেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনকালেও তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা সম্ভব হয়নি এবং তিনি সর্বদা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সততা ও সুশাসনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে শিক্ষা খাতের গতিশীল সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সকালের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে ছবিটি প্রকাশ করে লেখেন, “শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।” ওই ছবিতে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এবং অপর এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটির নিচের অংশে সময় ও তারিখের ডিজিটাল স্ট্যাম্প দৃশ্যমান ছিল, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায় এটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা।
পুলিশ কর্মকর্তার প্রমোশন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
ছবি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে পাটওয়ারী কমেন্ট বক্সে নতুন তথ্য যুক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, ছবিতে থাকা তৃতীয় ব্যক্তিটি হলেন চাঁদপুর জেলার কচুয়া সার্কেলের বর্তমান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাই চৌধুরী। পাটওয়ারীর ভাষ্যমতে, আবদুল হাই চৌধুরী সম্পর্কে ব্যারিস্টার সুমনের ভাই।
নতুন যুক্ত করা মন্তব্যে পাটওয়ারী প্রশ্ন তুলে লেখেন, “তিনি ব্যারিস্টার সুমনের ভাই হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত দ্রুত পদোন্নতি পেলেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং পেলেন? এটি চরম নীতিহীনতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।” তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান ও প্রতিবাদ
শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারের শিক্ষা সংস্কার উদ্যোগ থামানো যাবে না। গুজবের পরিবর্তে সত্যের ওপর ভিত্তি করে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক ময়দানে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে মনগড়া তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
#রাজনীতি #শিক্ষা_মন্ত্রণালয় #বাংলাদেশ #সংবাদ