আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই বিধিকে নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন এবং বলেন, এসপি বদলিতে লটারি পদ্ধতিকে তিনি ভালো পদ্ধতি হিসেবে দেখেন না।

লটারি পদ্ধতির সমালোচনা

নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের বলেন, লটারির মাধ্যমে এসপি বদলি একটি রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে উঠেছে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে নিয়োগ বা বদলি করার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে এবং তা কার্যকর ফল দিতে নাও পারে।

“আমি মনে করি লটারি একটি ভালো পদ্ধতি হতে পারে না। কারণ, সবার বিশেষ বিশেষ যোগ্যতা থাকে এবং লটারির মাধ্যমে দায়িত্ব দিলে তা ভালো ফল না-ও দিতে পারে।”

নজরুল ইসলাম খান তার মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মনে করেন এবং জানান যে, দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, সাংবাদিকদের মধ্যেও কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পান যোগ্যতার ভিত্তিতে; সেই একই যুক্তি পুলিশ সিস্টেমে প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সিইসির সঙ্গে বৈঠক ও আলোচ্য বিষয়

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে নজরুল ইসলাম খান গণভোট বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে, গণভোট নতুন কিছু নয় এবং গণভোট সংক্রান্ত আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে; তাই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক থাকার প্রয়োজন নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

উপস্থিতরা

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লা এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

  • নজরুল ইসলাম খান — বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য
  • অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী — বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
  • ইসমাইল জবিউল্লা — চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য
  • ড. মোহাম্মদ জকরিয়া — নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে নজরুল ইসলাম খান লটারির পদ্ধতির বিকল্প ও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি পুনরায় বলেন যে, পেশাগত যোগ্যতা বিবেচনায় না নিয়ে কেবল লটারির মাধ্যমে দায়িত্ববন্টন কার্যকর বা আদর্শ পদ্ধতি হবে না।

সংক্ষিপ্ত উপসংহার

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত এবং তা লটারির মাধ্যমে বদলির পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে বিএনপির নেতারা তাদের উদ্বেগ এবং মতামত প্রকাশ করেছেন। নজরুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত অবস্থান ও বৈঠকে আলোচিত বিষয়সমূহ এই প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হলো।