বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় বর্তমানে কোনো নতুন জটিলতা দেখা যায়নি। একটি মেডিকেল বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালের কেবিনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে এই খবর জানান।
শায়রুল কবির খান উল্লেখ করেন যে, দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর ডা. জাহিদ হোসেনকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চেয়ারপারসন আলহামদুলিল্লাহ কেবিনে নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন এবং চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন। এই বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, দায়িত্বশীল এবং অনুমোদিত কারও বক্তব্য ছাড়া যেন কোনো তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ বা শেয়ার করা না হয়। এই ধরনের সংবেদনশীল সময়ে সঠিক তথ্য পরিবেশনের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের দ্রুত ও সম্পূর্ণ আরোগ্যের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া চাওয়া হয়েছে। একইসাথে, মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন এবং তিনি যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, এই প্রার্থনাও জানানো হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ও পূর্বের চিকিৎসা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ ১১৭ দিন অবস্থান করেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। গত ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এবং পূর্বের অসুস্থতার ফলোআপ হিসেবে এই হাসপাতাল পরিদর্শন চলছিল।
মেডিকেল বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গত রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর তার বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় তার বুকে একটি সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তার সার্বিক শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে।
শারীরিক জটিলতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ
চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। নতুন করে ধরা পড়া এই সংক্রমণ তার ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে তার শ্বাসকষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই ধরনের গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তিনি মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। বোর্ডের সদস্যরা তার স্বাস্থ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেমন রক্তচাপ, পালস রেট, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অক্সিজেনের মাত্রা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা তার অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সেবা, ঔষধপত্র এবং সহায়ক ব্যবস্থা প্রদান করছেন। আপাতত তার শারীরিক অবস্থায় কোনো নতুন বা অপ্রত্যাশিত জটিলতা দেখা যায়নি বলে মেডিকেল বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির খবর।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার স্বাস্থ্যের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। তারা আশা করছেন, নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার ফলে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া তার সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।