কুমিল্লা বিভাগের দাবি নিয়ে রাজধানীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)। সোমবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতা, সদস্য এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে কুমিল্লা বিভাগের দ্রুত বাস্তবায়ন ও অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী অবহেলার সমাধান দাবি করা হয়।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা সবসময়ই উন্নয়নবঞ্চনার শিকার। তিনি বলেন, ‘যে ন্যায্য দাবি নিয়ে আপনারা রাস্তায় নেমেছেন, তার প্রতি আমি ঐক্যের ডাক দিচ্ছি—এটা কুমিল্লার ইজ্জতের প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা আজও অনেক মৌলিক অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বরাদ্দ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবিসমূহ ও জরুরি সমস্যা

মনিরুল হক চৌধুরী সমাবেশে কুমিল্লার প্রধান বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা–কুমিল্লা মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও ওই রাস্তাটির যথাযথ উন্নয়ন হয়নি। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর মহাসড়ক পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা দীর্ঘদিন পেছনে চলে এসেছে। তিনি ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ না হওয়াকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দুই পৌরসভা একীভূত হওয়ার পরও নতুন অবকাঠামো, জনবল বা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা বহু বছর বিলম্বিত হওয়া, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু না হওয়া এবং শিল্প-বাণিজ্য ও শিক্ষা খাতে বৈষম্যমূলক বরাদ্দ—এসব বিষয় তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন যে ইতিহাস জুড়ে কুমিল্লা প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও পরিবর্তন হয়নি।

সমাবেশ ও অংশগ্রহণকারীরা

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. মোশাররফ হোসাইন। রাজনীতিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সরাসরি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি রাস্তায় আন্দোলনকে সহায়তা করবেন এবং আন্দোলনকে সংগঠিত করার জন্য সময় চান।

সমাবেশে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন রাজনীতিবিদ ইকবাল হোসেন মজুমদার, বৃহত্তর কুমিল্লা বনশ্রী-আফতাবনগর সমিতির সভাপতি এনামুল হক বাবলু, নাঙ্গলকোট উন্নয়ন ঐক্য ফোরামের সভাপতি মাইনুল হক বাবলু এবং ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম।

  • সিজেএফডি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন
  • সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডিইউজের যুগ্ম-সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার
  • সহ-সভাপতি এম এস দোহা, ডিইউজের অর্থ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসেন
  • ডিআরইউ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মঈনুল আহসান, সিজেএফডি’র যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম
  • অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, সাবেক অর্থ সম্পাদক সায়ীদ আবদুল মালিক
  • জনকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী
  • তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ
  • হালিম মোহাম্মদ, নার্গিস জুঁই, ড. শাহজাহান মজুমদার, মাহবুব মোর্শেদ, রানা চৌধুরী, শাহজালাল উজ্জল
  • গোলাম মোস্তফা রবি, ইমাম হোসেন ইমন, নুরুল ইসলাম খান মামুন, মঈন উদ্দিন শাহীন, আকাশ খান, মেরি আক্তার

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সদস্য, বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিক। শেষ পর্যন্ত বক্তারা যখন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প দেখেন না, তখন বলেন যে কুমিল্লার ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন পথ খুঁজে বের করা হবে।