আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীদের জন্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও র‌্যালি করে প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেয়া এক বার্তায় সোমবার (২৪ নভেম্বর) জারি করা হয়েছে বলে সংগঠনের সংশ্লিষ্ট পরিসরে জানানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও নির্দেশের সারসংক্ষেপ

বার্তায় বলা হয়েছে যে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর নির্বাচনি এলাকায় মোটর সাইকেল র‌্যালি ও মোটরশোভাযাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এসব কর্মসূচিতে কয়েকটি দুর্ঘটনা ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে যে দলীয় আমির এখন থেকে সব জেলা ও মহানগরীর নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

জামায়াতের আমির এখন থেকে সব জেলা/মহানগরী নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

বার্তায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশে সুশৃঙ্খলতা রক্ষা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই বার্তায় প্রার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা প্রচারণার সময়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর নির্দেশনা মেনে চলবেন।

সম্প্রতি ঘটনার বিবরণ

জামায়াত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সদ্য কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থানে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার ঘটনা ভূমিকা রেখে নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন, জেলা ও মহানগরী পর্যায়ে নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে টেকসই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিৎ যে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, সে কথাটি জানান। তিনি বলেন যে নির্দেশনা অনুযায়ী সকল জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং মনোনীত প্রার্থীদের অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

প্রযোজ্য নির্দেশনা ও পরবর্তী কার্যক্রম

নির্দেশনায় প্রার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা মোটরসাইকেল র‌্যালি বা শোভাযাত্রার বদলে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনাটি প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রেরণ করে তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং প্রার্থীদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে।