আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। গোপালগঞ্জকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একই সময়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টি জানিয়েছে যে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৮৪ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ফরম বিক্রি দলের দেশব্যাপী কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে।

গোপালগঞ্জে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীরা হলেন:

  • গোপালগঞ্জ-১ আসন: ইশতিয়াক আজীম, আরিফ খান, প্রলয় কুমার পাল, মুহাম্মদ আবুল হোসেন (আসাদ)।
  • গোপালগঞ্জ-২ আসন: আরিফ শেখ, বাঁধন মিয়া, বুলবুল ইসলাম, শেখ নাঈম আহমেদ।
  • গোপালগঞ্জ-৩ আসন: মো. আরিফুল দাড়িয়া।

এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ঐতিহ্যগতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলের শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

দেশব্যাপী মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও মতবিনিময় সভা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কার্যক্রম জোরদার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে মোট ১ হাজার ৪৮৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এই সংখ্যা দলের প্রতি জনগণের আগ্রহ নির্দেশ করে।

‘দেশ বদলাবে নতুন নেতৃত্বে’ স্লোগানকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত রোববার সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রতিদিন রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। আজ দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান শেষ হচ্ছে।

গোপালগঞ্জে পূর্ববর্তী সংঘর্ষের ঘটনা

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায়, যাতে পাঁচজন নিহত হন। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতেও হামলা হয়।

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া পাহারায় এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন। এই ঘটনা জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং মতবিনিময় সভা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।