বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন সম্প্রতি এক জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত চারটি মূলনীতি সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে শ্রমিক, কৃষক, যুব ও নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানান। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সেনপাড়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন এই মন্তব্য করেন। সভাটি সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিপিবি সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি কমরেড ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন এবং ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল সভা পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ও শোষণমুক্ত সমাজের আহ্বান সিপিবি সভাপতি কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন তার বক্তব্যে পুনরায় উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত চার মূলনীতিকে অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি বলেন, শোষণ ও বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান সংগ্রামকে আরও গতিশীল করতে শ্রমিক, কৃষক, যুব ও নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। বামপন্থিদের সরকার গঠনের জন্য সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং তাদের নেতৃত্বেই আগামী দিনের ক্ষমতার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ব্যবস্থার পরিবর্তন ও নির্বাচনের দাবি সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স তার বক্তব্যে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তনই এখন সময়ের দাবি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, কমিউনিস্টরা সেই ব্যবস্থা পরিবর্তনের সংগ্রাম নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছে। প্রিন্স আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত হলো একটি নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী নির্বাচন। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কাউন্টডাউন দেখতে চাই। তিনি বিশ্বাস করেন যে, কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, লুটপাট ও শোষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামকে জনগণের আন্দোলনে রূপান্তরিত করবে। কমরেড প্রিন্স জোর দিয়ে বলেন, মুক্তির একমাত্র পথ হলো সমাজতন্ত্র। তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, ব্যবস্থার বদলের লড়াইয়ে কমিউনিস্টদের নির্বাচিত করার জন্য। অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ও সিপিবি ১৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী কমরেড ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখনও অনিশ্চিত যে ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, কারণ বর্তমান সরকার এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি। ডা. রুবেল উল্লেখ করেন যে, জনগণ আজ অর্থনৈতিক সংকট, বৈষম্য ও দুর্নীতির শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে জনগণের ঘাম ঝরানো টাকায় দেশ চলছে, অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা দেশের সম্পদ লুট করছে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রবন্দর, গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগসহ জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি প্রতিটি শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, নারী ও মধ্যবিত্ত নাগরিককে একত্রিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানান। ডা. রুবেল স্পষ্ট করেন যে, সিপিবি ও বামপন্থিরা একটি নির্দিষ্ট সনদে স্বাক্ষর করেনি, কারণ এতে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি বাতিল করা হয়েছে।