জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সম্প্রতি শাপলার বিকল্প হিসেবে শাপলা কলির নান্দনিকতা ও দৃষ্টিনন্দন আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন যে, শাপলার মূল প্রতীকের বিকল্প হিসেবে শাপলা কলি কতটা দৃষ্টিনন্দন রূপে উপস্থাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন।

আখতার হোসেন তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে আসছে যে, শাপলার কোনো প্রকৃত বিকল্প নেই। দলটির নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো কারণে শাপলার বিকল্পের প্রয়োজন হয়, তবে সেই বিকল্প অবশ্যই শাপলার নিজস্ব কাঠামোর মধ্য থেকেই উদ্ভূত হতে হবে। এই মৌলিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে, এনসিপি অতীতে বিভিন্ন সময়ে শাপলার মূল প্রতীককে অক্ষুণ্ণ রেখে নানারকম নতুন ডিজাইন এবং রূপরেখা উপস্থাপন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও এনসিপি’র পর্যবেক্ষণ

এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি শাপলার মূল প্রতীকের ভেতর থেকেই ‘শাপলা কলি’কে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে হাজির করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পর আখতার হোসেনের প্রধান জিজ্ঞাসা হলো, শাপলার মতো একটি সুপরিচিত এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের বিকল্প হিসেবে এই ‘শাপলা কলি’ কতটা নান্দনিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। তিনি এই নতুন বিকল্পের আকৃতি, এর শৈল্পিক মান এবং সামগ্রিক সৌন্দর্যগত দিকটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে আগ্রহী।

আখতার হোসেনের এই মন্তব্য কেবল একটি প্রতীকের নান্দনিকতা নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতে প্রতীক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূল প্রতীকের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এনসিপি’র দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান হলো, শাপলা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, তাই এর যেকোনো পরিবর্তন বা বিকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল হওয়া উচিত।

দলটির পক্ষ থেকে বারবার এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, শাপলার বিকল্প হিসেবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো প্রতীক গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং, শাপলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি বজায় রেখে এর মধ্যে থেকেই নতুন কোনো রূপ বা সংস্করণ তৈরি করা যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘শাপলা কলি’কে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিবের নজরে এসেছে এবং তিনি এর নান্দনিক দিকটি খতিয়ে দেখতে চেয়েছেন।

আখতার হোসেন তার ফেসবুক পোস্টে সরাসরি বলেছেন, “শাপলার বিকল্প হিসেবে শাপলা কলি কেমন দৃষ্টিনন্দন আকৃতির হলো সেটা আমরা বুঝতে চাই।”

এই উক্তিটি তার দলের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে শাপলাকে একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। আখতার হোসেনের এই মন্তব্য সেই সংবেদনশীলতা এবং দলের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধেরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশা করেন যে, ‘শাপলা কলি’ শাপলার একটি উপযুক্ত, অর্থবহ এবং দৃষ্টিনন্দন বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।