বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শিশু উৎসব, জুলাই-আগস্ট চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন। যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না সভাপতিত্ব করেন এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। যুবদলের নেতাকর্মী, আমন্ত্রিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী শিশু ও তাদের অভিভাবকরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের ভাষা শিক্ষা ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহদি আমিন শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ শিশুদের বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ড. মাহদি আমিন বলেন, “আমরা চাই আমাদের শিশুরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি ভাষা শিখবে। সেটা হতে পারে জাপানিজ, ফরাসি কিংবা অন্য যে কোনো ভাষা। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাষা শেখার মাধ্যমে শিশুরা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারবে। এটি তাদের জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করবে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যুবদলের প্রস্তাবনা
ড. মাহদি আমিন দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের জোর করে পড়াশোনা করানো হয় এবং তারা আনন্দ নিয়ে শেখে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের জোর করে পড়াশোনা করানো হয়। তারা কেউ আনন্দ নিয়ে পড়ে না। আমাদের নেতা বলেছেন- বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ক্লাস সিক্স থেকে আমরা একটি নতুন সাবজেক্ট যুক্ত করবো। যেটার নামই হবে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।”
এই নতুন বিষয় প্রবর্তনের মাধ্যমে শিশুরা খেলার ছলে এবং আনন্দের সাথে শিখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, এটি শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও পুরস্কার বিতরণী
অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না তার বক্তব্যে আয়োজনে উপস্থিত সকল আমন্ত্রিত অতিথি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু ও তাদের অভিভাবক এবং বিচারকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানকে সফল করেছে।
বক্তব্য পর্ব শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয়। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সম্পন্ন হয়।