জুলাই শহীদদের রক্তের মূল্যায়ন ও প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান: শফিকুর রহমান
রাজধানীর উত্তরায় গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ নাঈমা সুলতানার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে আত্মদানকারী জুলাই শহীদদের কাঙ্ক্ষিত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনের সময় আত্মোৎসর্গকারী প্রতিটি শহীদের রক্তের ফোঁটার সঠিক মূল্য দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রধান জাতীয় দায়িত্ব।
শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা
রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে নিজ বাসভবনের বারান্দায় অবস্থানকালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তরুণী নাঈমা সুলতানা। শহীদ নাঈমার বাসায় গিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতা তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং শোকার্ত স্বজনদের প্রতি গভীর ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান আবেগঘন কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “নাঈমার মা তাকে অত্যন্ত স্নেহ ও যত্ন দিয়ে পরম মমতায় বড় করে তুলেছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী শাসনের নির্মম ও নৃশংস গুলি সেই উদীয়মান তরুণীকে আমাদের মধ্য থেকে অকালে কেড়ে নিয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, শহীদ নাঈমা সুলতানা যে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। উল্লেখ্য, জামায়াত আমির স্বীকার করেন যে শহীদ নাঈমার বাসা তার বাসভবনের অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও নানা ব্যস্ততার কারণে দেখা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দেরির জন্য তিনি প্রকাশ্যে পরিবারের সদস্যদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।
জাতীয় ঐক্য ও সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি
এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকালে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন। এছাড়াও উত্তরা ও তুরাগ অঞ্চলের বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থেকে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে জানান যে, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং দেশের প্রতিটি নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। পরবর্তীতে রাতে সংগঠনের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সৌজন্য সাক্ষাতের সব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াতে_ইসলামী #জুলাই_গণঅভ্যুত্থান #সংবাদ