জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি আদায়ে সবাইকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন যেখানে ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরের শেরে-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন। এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে দলের কাফরুল উত্তর থানা শাখা।
পিআর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে পিআর পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’—এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এই ধরনের নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই দাবি আদায়ে সকল স্তরের মানুষকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তার মতে, বর্তমান নির্বাচনী পদ্ধতির ত্রুটিগুলো দূর করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য পিআর পদ্ধতি অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা
মুজিবুর রহমান সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আসনে সংগঠন তাদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছে। নায়েবে আমির দাবি করেন যে, আমিরে জামায়াত শুধু দেশেই নন, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও একজন বরেণ্য ব্যক্তি। তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে জনগণ তার যোগ্যতর সেবা পাবে। তিনি আরও বলেন, যদি দল ক্ষমতায় আসে, তবে তার যোগ্যতর নেতৃত্বে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এই কল্যাণ রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে এবং দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে।
তিনি স্বপ্নের সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করার মাধ্যমেই জামায়াতের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান
জামায়াতের এই নেতা দেশে সবার আগে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এজন্য সবার জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার। তিনি অতীত অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান, যার মধ্যে ভোটচুরি, ডাকাতি, কেন্দ্র দখল এবং নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা; নির্বাচন ঠান্ডা’—এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি জনগণ আর দেখতে চায় না। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়া অপরিহার্য। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রকার অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো যখন দেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি তার বক্তব্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং জনমুখী নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।