নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতীকের তালিকায় সম্প্রতি ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে যে, তারা ‘শাপলা কলি’ নয়, বরং ‘শাপলা’ প্রতীক চায়। এনসিপি তাদের এই অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং বিকল্প কোনো প্রতীক গ্রহণে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন তাদের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসি পূর্বে জানিয়েছিল ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে, যেহেতু এখন ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাই ইসি চাইলে ‘শাপলা’ প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতীক নিয়ে এনসিপির অনড় অবস্থান

অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন,

‘আমরা ‘শাপলা কলি’ নয়, শাপলা প্রতীক চাই। ইসি আগে জানিয়েছিল শাপলা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, কিন্তু এখন যেহেতু ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা চাইলে শাপলাও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। আমরা কলি নয়, শাপলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প বিবেচনা করছি না।’

তার এই বক্তব্য এনসিপির দৃঢ় মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায়। দলটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই ‘শাপলা’ প্রতীক ছাড়া নিবন্ধন নেবে না বলে জানিয়ে আসছিল। এই প্রতীক নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসির ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করেছিল।

নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন ও পূর্বের ঘোষণা

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে উপরিউক্ত বিধিমালার বিধি ৯ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নতুন উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০ এর দফার অধীন স্থগিত করা প্রতীক ব্যতীত নিম্নবর্ণিত প্রতীকগুলো থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি ইসির তালিকায় যুক্ত হয়।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন যে, ইসির বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে তা দেওয়া হবে না। তিনি তখন আরও বলেছিলেন যে, কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করে অন্য একটি প্রতীক বরাদ্দ দেবে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। তবে, ইসির এই ঘোষণার পরও এনসিপি তাদের মূল দাবি ‘শাপলা’ প্রতীকের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ার পরও দলটি তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের পছন্দের ‘শাপলা’ প্রতীক পাওয়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত করা হলেও, এনসিপি তাদের মূল দাবি থেকে সরে আসেনি এবং ‘শাপলা’ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প বিবেচনা করছে না।