গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে আরেকটি মওদুদীবাদি প্রক্সি দলে পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ঐক্যমত কমিশন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ব্যতীত অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলের সাথে প্রতারণা করেছে। এই গুরুতর অভিযোগগুলো তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দলের ভূমিকা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। রাশেদ খাঁন, যিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন পরিচিত নেতা, তার বক্তব্যে জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদের পক্ষে একই দিনে ভোটের পক্ষে 'হ্যাঁ' এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটে 'না' অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে সাতটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের মাধ্যমে তার বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাবনা রাশেদ খাঁন তার প্রথম পয়েন্টে উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সামনে একটি প্রস্তাবনা হাজির করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবনায় বলা হয় যে, বিশেষজ্ঞরা একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। এই প্রস্তাবনাটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জামায়াত ব্যতীত সকল রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবনার সাথে একমত হয়েছিল। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-ও এই প্রস্তাবনার পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছিল। তবে, পরের দিন এনসিপি তাদের পূর্বের অবস্থান আকস্মিকভাবে পরিবর্তন করে, যা রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করে। রাশেদ খাঁন সেসময় তার দেওয়া বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যা এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক ছিল। এনসিপি ও জামায়াতের কথিত সম্পর্ক এনসিপির অবস্থান পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, জামায়াত ও এনসিপি একই রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে, রাশেদ খাঁনের অভিযোগ অনুযায়ী, এনসিপি চায় না যে গণমাধ্যমে জামায়াতের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশিত হোক; তারা এই সম্পর্ক গোপন রাখতে আগ্রহী। এই গোপন সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল হিসেবে, রাশেদ খাঁন দাবি করেন যে, দুই দল যে আলাদা অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তা বোঝাতে এনসিপি জামায়াতের বিরুদ্ধে জনসংযোগ (পিআর) ইস্যুতে সমালোচনা শুরু করে। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, জামায়াত-এনসিপি সম্পর্কে ফাটল কি কৃত্রিম নাকি গুরুতর। রাশেদ খাঁনের মতে, এনসিপির যেসব নেতা জামায়াত-শিবিরবিরোধী বক্তব্য দেন, তা মূলত একটি বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই দেওয়া হয় এবং এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি তার পূর্বের কয়েকটি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াত যা সরাসরি করতে পারে না, তা এনসিপিকে দিয়ে করায়। এর অর্থ হলো, এনসিপির মধ্যে জামায়াত-শিবিরের যে নিয়োগ রয়েছে, তারা নাহিদ ইসলামদের মতো নেতাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের নিয়োগ নীতির কারণে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের সক্ষমতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাশেদ খাঁন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার ১৪ মাসেও তার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করতে পারেনি, অথচ হাতে মাত্র চার মাস সময় আছে। এই স্বল্প সময়ে সরকার দুটি নির্বাচন আয়োজনের মতো সক্ষমতা রাখে কিনা, তা নিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।