জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পদত্যাগের গুজব সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি এনসিপির সঙ্গেই ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেশন হলে আয়োজিত একটি সমন্বয় সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমি রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখলাম সারারাত গুজব চলেছে। আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ এনসিপি সরকার গঠন করবে, এনসিপির সঙ্গেই থাকবো।” তার এই বক্তব্য দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে অনেকেই তাকে ফোন করেছিলেন এবং তিনি সকালে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতও রাতেই এই গুজব সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছিলেন।
পদত্যাগের গুজব ও দলের অবস্থান
বৃহস্পতিবার রাতে একটি গণমাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে, দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয় যে, তার পদত্যাগের বিষয়টি কিংবা দল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার খবর সঠিক নয়। এই ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই প্রকাশ্যে এসে গুজব খণ্ডন করেন এবং তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মিডিয়া ট্রায়াল এবং সাংবাদিকতার প্রতি আহ্বান
এনসিপির এই নেতা তার বিরুদ্ধে চলমান “মিডিয়া ট্রায়াল” নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “কিছু বিষয়ে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে। আমরা এখনই বলবো না যে কারা এগুলো করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না, কীভাবে! আমরা স্বীকার করছি যে, আমাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে, অতীতেও চলেছিল।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই ধরনের প্রচারণার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যদিও তিনি সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করেননি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের সাংবাদিকদের প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক দেশপ্রেমিক সাংবাদিক রয়েছেন এবং তাদের প্রতি তার অনুরোধ, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটি যেন সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করা হয়। তিনি তথাকথিত “অপসংবাদিকতা” যারা করেন, তাদের প্রতিও বোধোদয়ের আহ্বান জানান এবং সুস্থ সাংবাদিকতার পথে যাত্রার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করা গণমাধ্যমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের গুজব বা ভুল তথ্য প্রচারের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অনুকূল নয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়কের এই বক্তব্য তার পদত্যাগ সংক্রান্ত সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। তিনি তার দলের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ পথচলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।