জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোট সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের রামপুরা থানা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। এই সমাবেশটি জুলাই সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করাসহ মোট পাঁচ দফা দাবিতে রামপুরা একরামুন্নেসা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এই দাবিগুলো দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

গণভোটের দাবি ও প্রক্রিয়া

জামায়াত নেতা মাসুম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই সনদ কেবল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং এর বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টাকে এই সনদের বিষয়ে একটি আদেশ জারি করতে হবে। মাসুমের মতে, সাধারণত বাংলাদেশের আইনে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন, তবে যদি আইনের কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকেই সেই সুযোগ গ্রহণ করে আদেশ জারি করতে হবে। এটি সনদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

আমরা বলেছি নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে।

গণভোটের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ইচ্ছা বাস্তবসম্মত নয়। মাসুম যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশে সকাল ৮টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া চলে। যদি একটি কাজে এত সময় ব্যয় হয় এবং গণভোটও একই দিনে করা হয়, তাহলে একদিনে নির্বাচন সম্পন্ন করা কঠিন হবে এবং একটি বড় ধরনের গোলযোগ তৈরি হতে পারে। তার মতে, প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব নির্বাচনী ফলাফলের দিকে মনোযোগী থাকবেন এবং গণভোটের বিষয়ে তাদের কোনো চিন্তা থাকবে না। এর ফলস্বরূপ, এ দেশের জনগণের গণভোটের মাধ্যমে তাদের চাওয়া-পাওয়া প্রকাশের সুযোগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জামায়াত নেতা মাসুম তার দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, যদি তারা ক্ষমতায় আসেন, তাহলে নারীর অধিকার নিশ্চিত করবেন। তিনি বর্তমান সভ্যতার নারীদের পুরুষ বানিয়ে স্বাধীনতা দেওয়ার ধারণার সমালোচনা করেন এবং ইসলামের দেওয়া নারী হিসেবে নারীর স্বাধীনতার ধারণাকে অধিকতর সম্মানজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তারা নারীদের মায়ের জাতি হিসেবে, বোনের জাতি হিসেবে এবং স্ত্রীর জাতি হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন। শালীনতা বজায় রেখে তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মাসুম আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে বসবাসকারী অমুসলিমদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না।

আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

এই নেতা দেশের আইন সংস্কার করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো ব্রিটিশ আমলের পুরোনো আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য উপযুক্ত নয়। জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র, সংবিধান এবং বিভিন্ন আইন-কানুনকে একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী করে নতুনভাবে রচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এটি দেশের আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার একটি পদক্ষেপ হবে বলে তিনি জানান।

রামপুরা একরামুন্নেসা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই গণসমাবেশে জামায়াতের রামপুরা থানা উত্তরের আমির ফজলে আহমেদ ফজলু সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।