বিএনপি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী অধ্যাদেশের বেশ কিছু ধারায় সম্মতি জানালেও, জোটের প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানটিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে আরপিও সংশোধনের এই নির্দিষ্ট ধারাটির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেন।
আরপিও সংশোধনীতে বিএনপির আপত্তি
সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, আরপিও সংশোধনের বেশ কিছু ধারায় বিএনপির নীতিগত সম্মতি ছিল। তবে, ২০(১) উপধারা অনুযায়ী জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারতো। এই ধারার পরিবর্তনে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই একমত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এই বিষয়ে আশ্বস্ত ছিল। কিন্তু, যেভাবে আরপিও অধ্যাদেশটি পাস করা হয়েছে, তাতে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হতে উৎসাহিত হবে না বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এর ফলে ছোট দলগুলোর অনেক বড় নেতা তাদের রাজনৈতিক সুযোগ হারাবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই অধ্যাদেশটি একতরফাভাবে পাস করা হলো? বিএনপি একটি বহুদলীয় এবং সমৃদ্ধ সংসদ দেখতে চায়। তাই, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
‘না’ ভোট এবং নির্বাচন প্রস্তুতি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া যাতে কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে না পারে, সেই নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য একক প্রার্থী থাকা আসনে ‘না’ ভোট বা নেতিবাচক ভোটের বিধানের প্রতি বিএনপি সম্মতি জানিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আরপিও সংশোধনের বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। এই চিঠিতে তাদের সুনির্দিষ্ট আপত্তির কারণগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, চলতি মাসের মধ্যেই বিএনপি দেশের ২০০টি আসনে একক প্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেবে। এই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার পর প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি আসনেই একাধিক যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। শরিক দলগুলোর সঙ্গেও নিবিড় আলোচনা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে। যারা শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরও দলের পক্ষ থেকে অন্যভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিএনপির এই পদক্ষেপগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সামগ্রিক কৌশল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের প্রত্যাশাকে স্পষ্ট করে তোলে। দলটির নেতারা আশা করছেন, তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।