আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ এবং দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে যমুনায় পৌঁছায় এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি বিবেচিত হচ্ছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কৌশল এবং দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়েছেন। জামায়াত নেতাদের বৈঠকের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিকেল ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। এই বৈঠকে এনসিপি নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে। এই বৈঠকে বিএনপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেয়।
বিএনপির দাবি
বিএনপি তাদের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকারকে ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কের’ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য। এছাড়া, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে দলীয় লোক থাকলে নির্বাচনের আগে তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দলীয় প্রভাব থাকলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।