পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজকে ‘গলাবাজি’ বলে আখ্যা এনসিপি আহ্বায়কের
দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ব্রিফিং এবং তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রেস রিলিজের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে বাহবা কুড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা উল্লেখ করে একে সাধারণ কথায় ‘গলাবাজি’ এবং অলংকারিক ভাষায় ‘বাগাড়ম্বর’ বলে অভিহিত করেন। ঢাকা শহরের বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক একটি স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে তিনি এসব কড়া মন্তব্য প্রদান করেন।
কূটনৈতিক পদক্ষেপের অভাব ও সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কঠোর সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রেস রিলিজে বড় বড় কথা বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো শক্ত কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি আগেই ঘোষণা দিয়ে করা হয়েছে এবং দিল্লি সরকার এতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা জুগিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে দ্রুত তলব করা এবং এই ঘটনার তীব্র ও আনুষ্ঠানিক নিন্দা জ্ঞাপন করা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সরকার ঠিক কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, তা দেশের সাধারণ জনগণের সামনে পরিষ্কার ও উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব এবং স্বৈরাচারী প্রবণতার সতর্কতা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থার আমূল ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা না গেলে যেকোনো সরকারই ধীরে ধীরে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের মধ্যেও পরোক্ষভাবে সেই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, অতীতেও একটি চরম ব্যর্থ দল আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠার বারবার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সাধারণ জনগণের তীব্র ও অভূতপূর্ব প্রতিরোধের কারণে তারা সেটি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়নি।
জনগণের গণপ্রতিরোধের ইতিহাস ও ভবিষ্যতের হুঁশিয়ারি
তিনি ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তৎকালীন সময়েও জনগণের রাজপথের প্রতিরোধের মুখেই তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পিছু হটতে হয়েছিল। সুতরাং বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ কোনো সরকার যদি আবার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধরনের স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করার অপচেষ্টা চালায়, তবে বাংলাদেশের সচেতন জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। অনুষ্ঠান চলাকালে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সহ সংগঠনের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #এনসিপি #কূটনীতি