চট্টগ্রামে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে তারা সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলাঘরের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত কার্যালয়ে ঘটে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এনসিপির কর্মীরা দোস্ত বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল এবং কার্যালয়ের মূল দরজা ভাঙচুর করেন। এরপর তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন স্মারক সামগ্রী ভাঙচুর করেন। এই হামলার সময় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দুই পাশে থাকা আরও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এনসিপির বক্তব্য

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন একটি বিবৃতি দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভবনটিতে রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে সভা করতেন। আরিফ মঈনুদ্দিনের ভাষ্যমতে, খবর পেয়ে এনসিপির কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান এবং ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি অস্বীকার করলে, তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলার প্রমাণ পান। এনসিপি নেতা আরও জানান যে, তারা আপাতত কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন এবং আগামী দুই দিন ভবনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘ভবনটিতে রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে সভা করতেন। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমরা প্রমাণ পাই যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছিল। তাই আপাতত আমরা কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে রেখেছি। আগামী দুই দিন ভবনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবো।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান যে, তিনি শুনেছেন জুলাই মাসের কোনো একটি সংগঠনের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিল। কারা এই কার্যক্রমে জড়িত ছিল সে সম্পর্কে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি অবহিত আছে এবং তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। জোবাইরুল হাসান আরিফ আরও দাবি করেন যে, রাতের বেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই কার্যালয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

এই হামলার ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছে। তবে, তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। ওসি আব্দুল করিম স্পষ্ট করে বলেন যে, যদি কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ দ্রুততার সাথে তদন্ত শুরু করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই পরিস্থিতিতে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে কার্যালয় দখলের অভিযোগ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি এই ঘটনার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।