এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের এই আন্দোলন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, যা অবশেষে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পরিসমাপ্তি লাভ করে।

ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবিটি সরকার অবশেষে মেনে নিয়েছে। তবে, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন শিক্ষকরা যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হয়েছেন এবং এর ফলে শিশু-কিশোর ও ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখারও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ১২ অক্টোবর থেকে তাদের দাবি আদায়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা। এই দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষকরা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। শিক্ষকদের এই আন্দোলন তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে আরও বলেন, “এই বিবেচনাটি যদি সরকার আগে করত, তাহলে শিক্ষকমণ্ডলীর কষ্ট এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার ক্ষতি—উভয়ই এড়ানো যেত। সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা। বিলম্বিত হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই।”

সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন প্রত্যাহার

শিক্ষকদের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে শিক্ষক নেতাদের অবহিত করা হয় এবং তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা তাদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তাদের তিন দফা দাবি ছিল এবং এর মধ্যে বাড়িভাড়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। অধ্যক্ষ আজিজী এই সমঝোতাকে তাদের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন যে, তারা সরকারের প্রজ্ঞাপন নিয়েই বাড়ি ফিরছেন এবং তাদের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, শিক্ষকরা আগামী বুধবার থেকে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন এবং স্বাভাবিক শিক্ষাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।