দেশের মানুষ এখন আর পুরাতন প্রতীকে ভোট দিয়ে নতুন করে প্রতারিত হতে চায় না। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, অতীতের শাসকরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা বলে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে নিয়েছে। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে শরিক হতে চায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সম্প্রতি এক সমাবেশে এই মন্তব্য করেছেন।

সোমবার, ২০ অক্টোবর, রাজধানীর কুর্মিটোলা আবাসন ক্যাম্পে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সেলিম উদ্দিন তার বক্তব্যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামোকে ঢেলে সাজানো অপরিহার্য।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবর্তনের আহ্বান

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সংসদসহ রাষ্ট্রের সব অবকাঠামোকে আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে। তাহলে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তি অর্জন সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি অপার সম্ভাবনার দেশ। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের সমারোহে পরিবেষ্টিত এই বাংলাদেশ পর্যটনের দেশে পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অতি সহজ-সরল মানুষ আত্মসম্মান নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে মিলেমিশে বাঁচতে চায়। কিন্তু কিছু অসৎ ব্যক্তি ও একশ্রেণির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষীদের কারণে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এই চক্র লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজী এবং টেন্ডারবাজীর মাধ্যমে অগাধ বিত্ত-বৈভব কুক্ষিগত করেছে। সেলিম উদ্দিনের মতে, দেশের সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বাস করলেও এই অসৎ ব্যক্তিদের জীবন খুবই জৌলুসপূর্ণ। এই অশুভ বৃত্ত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি দেশকে অশাসন-দুঃশাসন, দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত করতে সবাইকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অপশাসন ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনমত

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির তার বক্তব্যে আরও বলেন, এদেশের মানুষ আর অপশাসন-দুঃশাসন ও স্বৈরাচারী-ফ্যাসিবাদী শাসনে ফিরে যেতে চায় না। কারণ, তারা স্বাধীনতার পর সুশাসন ও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের নামে লুটেরাদের লুটপাট ও লাগামহীন জুলুমবাজী প্রত্যক্ষ করেছে। তাই তারা এখন পরিবর্তন চায়। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষ এখন আর পুরাতন প্রতীকে ভোট দিয়ে নতুন করে প্রতারিত হতে চায় না। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, অতীতের শাসকরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা বলে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে নিয়েছে। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে শরিক হতে চায়।

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা -১৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেন এবং ইসলামী ইন্টারন্যাশন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দীন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. খয়বর আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. জুবায়ের হোসাইন রাজন।