নোয়াখালীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি কোরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। সোমবার, ২০ অক্টোবর, এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর সহযোগী সংগঠন যুবদলের সদস্যরা নোয়াখালীতে তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার নিন্দা ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতেই রাজধানীতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি সোমবার দুপুর পৌনে ২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়। মিছিলটি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এটি পুরানা পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং মৎস্য ভবনের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়ে শাহবাগে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ ও সমাবেশ

শাহবাগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। তার বক্তব্যে তিনি নোয়াখালীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, শান্তিপূর্ণ একটি ধর্মীয় কর্মসূচিতে এমন হামলা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, তথ্য সম্পাদক আবু সায়েদ সুমন, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ, পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহের এবং দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নোয়াখালীর ঘটনাকে একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তারা সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদেরও বিচার দাবি করেন।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা এবং প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলামসহ ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে নোয়াখালীর ঘটনার প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে একমত পোষণ করেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রশিবির তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

সমাবেশ শেষে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং তারা আশা করেন সরকার তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। তারা আরও বলেন, যদি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।