জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং এর ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে। ইসলামি দলগুলোর চলমান যুগপৎ আন্দোলনের চতুর্থ ধাপের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ অক্টোবর) এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে আগের পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে জনতা তা প্রতিহত করবে। জুলাইয়ে এত রক্ত ও জীবনদানের পর কোনো অবস্থাতেই আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে।
ইউনুস আহমাদ তার বক্তব্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, “এত রক্তের মাধ্যমে অর্জিত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে সমস্যা কোথায়?”
মহাসচিব ইউনুস আহমাদ আরও বলেন, দেশের যা অবস্থা তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সরকারের আচরণের মাধ্যমে, সদিচ্ছার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান।
পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা
পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইসলামি দলগুলো রোববার (১৯ অক্টোবর) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের। ঘোষিত পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:
- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও ওই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন।
- আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে/ উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
- অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
- ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
- স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য ইসলামি দলগুলো এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।