সম্প্রতি ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা ‘দরসে নেযামী’র আলেমদের নিয়ে মাওলানা তারেক মনোয়ারের দেওয়া একটি বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে দলটি। জামায়াত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে মাওলানা তারেক মনোয়ারের নিজস্ব মতামত এবং এর দায়ভার জামায়াতের নয়। একই সঙ্গে, এই ব্যক্তিগত বক্তব্যের জন্য জামায়াতকে দায়ী করার প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, কয়েক দিন আগে মাওলানা তারেক মনোয়ার সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত একটি ঘরোয়া আলোচনায় দরসে নেযামীর আলেমদের জড়িয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত অভিমত, যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জামায়াতের অবস্থান স্পষ্টকরণ

জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, মাওলানা তারেক মনোয়ার ইতিমধ্যেই তার এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করাকে দলটি ‘দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। জামায়াত মনে করে, একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য একটি রাজনৈতিক দলকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য দলগতভাবে দায়ী হওয়াকে তারা প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করার যে কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলেম সমাজের প্রতি জামায়াতের শ্রদ্ধা

জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার বিবৃতিতে আলেম সমাজের প্রতি জামায়াতের গভীর শ্রদ্ধার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরাবরই আলেম সমাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। তারা আলেমদের মুসলিম উম্মাহর রাহবার বা পথপ্রদর্শক এবং নেতা হিসেবে অত্যন্ত সম্মান করেন। যুগ যুগ ধরে আলেমরা জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন এবং ইসলামের শাশ্বত আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের এই অবদান অনস্বীকার্য।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও জোর দিয়ে বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী কখনো এমন কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি যা আলেম সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে বা তাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে। আলেমদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করাকে তারা তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ মনে করে। সুতরাং, মাওলানা তারেক মনোয়ারের ব্যক্তিগত বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াতকে আলেম সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর বা বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াত বিশ্বাস করে, আলেম সমাজ জাতির মেরুদণ্ড এবং তাদের সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

এই বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাওলানা তারেক মনোয়ারের ব্যক্তিগত বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক অস্বীকার করে এবং আলেম সমাজের প্রতি তাদের অবিচল শ্রদ্ধা ও সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করে। দলটি আশা করে, এই স্পষ্টীকরণের পর এ বিষয়ে সকল বিভ্রান্তির অবসান হবে।