বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে নাশকতার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশকে কেউ কোনোভাবেই উপনিবেশে পরিণত করতে পারবে না। তার মতে, একটি পরাজিত শক্তি এবারও দুর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। তবে, অতীতের সকল অপচেষ্টার মতোই এবারও তাদের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন যে, দেশের আপামর জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এই ধরনের সকল ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দেশের সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য আহ্বান জানান। রিজভী জোর দিয়ে বলেন, এ দেশের জনগণ বারবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এসেছে এবং এবারও তারা কোনো অপশক্তিকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে সফল হতে দেবে না। তিনি দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নাশকতার অপচেষ্টা এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে থেকে বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। তবে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বারবার সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করেছে। রিজভী জানান, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নানা ধরনের অপপ্রচার এবং অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করা। কিন্তু মানুষের মধ্যে যেই গভীর আত্মীয়তাবোধ এবং সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন রয়েছে, সেটাই এই সকল ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেয়নি এবং তাদের অপপ্রয়াস রুখে দিয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকল প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও এবারের দুর্গাপূজা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই উৎসবের কারণে সারাদেশ আজ এক প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠেছে।
সরকারের প্রতি নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান
সরকারের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখতে হলে সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অবশ্যই নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে হবে, যাতে কোনো ধরনের উসকানি বা হামলা সফল হতে না পারে। রিজভী মনে করেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সকল নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।