বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশের পাহাড় ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, মন্তব্য করেছেন যে এর পেছনে কোনো না কোনো চক্র জড়িত। একইসাথে, একটি রাজনৈতিক দলের নেতার প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক আক্রমণের আশঙ্কার বক্তব্যকেও তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ করে অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা মানুষকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। একই সময়ে, তৈরি পোশাক শিল্প খাতেও অশান্তির স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই কোনো না কোনো চক্র জড়িত রয়েছে। বিএনপির এই নেতা জানান, দেশবিরোধী কোনো চক্রান্ত বা অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা ব্যর্থ করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
জামায়াত নেতার বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ
বিএনপির মুখপাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই নেতা পার্শ্ববর্তী দেশ কর্তৃক আক্রমণের আশঙ্কা এবং যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “এ কথাগুলো কেন আসছে? এটা কি কোনো পাতানো বিষয়?” তিনি স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশের পানি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে সমাধান করা সম্ভব। তবে, আক্রমণের আশঙ্কা কেন ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন যে, এটি মানুষকে ভাবাচ্ছে যে, বিষয়টি কি পরিকল্পিত? তিনি এমন বক্তব্যকে দেশের জন্য বিপজ্জনক এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী বলে মন্তব্য করেন।
দেশের মানুষ এক ফ্যাসিবাদের পতন দেখেছে। আজ আবারও নতুন করে মাটির ভেতর থেকে, পাতাল থেকে, আরেকটি ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কি না সেটি মানুষের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু কর্মকাণ্ড সে আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে। জামায়াত নেতার ভারতের সাথে যুদ্ধের ঘোষণার কথার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি বড় ধরনের কোনো গেম প্ল্যান কি না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। জামায়াত একটি ভয়ংকর নীলনকশার মধ্যে রয়েছে। এটা রাষ্ট্রবিরোধী কথা। দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার ইঙ্গিত রয়েছে।
দুর্গাপূজা ও নিরাপত্তা
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই উৎসব অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। তিনি চান যে, উৎসবটি যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, যদিও উৎসব ঘিরে নানা ধরনের অপতৎপরতা রয়েছে। এজন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির এই নেতা জানান, প্রায় ৩৫ হাজার পূজামণ্ডপে দলটির নেতাকর্মীরা নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদিন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং পূজা নির্বিঘ্নে পালনের নির্দেশ দিচ্ছেন।
রিজভী দাবি করেন, দেশে-বিদেশে অনেক চক্রান্তকারী সক্রিয় রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে চায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে জাতিগত সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এসব চক্রান্ত প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবগুলোতে সতর্কতার সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।