বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার রাজনৈতিক সচিব এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান আবির তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। আবির জানান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. জাহিদ হাসানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অধ্যাপক ডা. জাহিদ হাসান তার চিকিৎসার সার্বিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর তারা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্বাস্থ্যগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, তার ইউরো সমস্যা রয়েছে। এই ধরনের সমস্যা সাধারণত মূত্রতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়াও, চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তার একটি কিডনি ফুলে গেছে। কিডনি ফুলে যাওয়া একটি গুরুতর অবস্থা যার জন্য বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এই দুটি সমস্যাই বর্তমানে তার চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ২০১৮ সাল থেকে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শয্যাশায়ী রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা বেশ নাজুক। এই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ আরও বেশ কিছু জটিল শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছেন। তার বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য সমস্যারই একটি ধারাবাহিকতা।
চিকিৎসকরা তার ইউরো সমস্যা এবং কিডনি ফোলা নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন এবং তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার রাজনৈতিক সচিব মোকছেদুর রহমান আবির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তার পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এই মুহূর্তে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তার চিকিৎসার অগ্রগতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন।