রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে সম্প্রতি ‘জিয়া সুইমিং কার্নিভাল’ সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার প্রথম সিজনে দেশের শতাধিক সেরা সাঁতারু অংশ নেন। নারীদের ৫০০ মিটার সাঁতার ইভেন্টে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্য ডা. শাহনাজ আক্তার প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য তাকে বিশেষভাবে পরিচিতি এনে দিয়েছে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, সকাল ৭টায় শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এটি পাঁচটি ভিন্ন বিভাগে বিভক্ত ছিল, যেখানে বিভিন্ন বয়সের ও স্তরের সাঁতারুরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সাঁতারুরা দুই কিলোমিটার, দেড় কিলোমিটার, এক কিলোমিটার এবং ৫০০ মিটার দূরত্বের বিভিন্ন ইভেন্টে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এই কার্নিভাল দেশের সাঁতারুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক।
প্রতিযোগিতার ফলাফল
নারীদের ৫০০ মিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় দেশের প্রথম নারী আয়রনম্যান ফেরদৌসী আক্তার মারিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তার এই অসাধারণ অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই ইভেন্টে ডা. শাহনাজ আক্তার প্রথম রানারআপের স্থান অধিকার করেন। এছাড়া, নাসরিন আক্তার এবং অতসী যৌথভাবে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন। এই ফলাফল প্রতিযোগিতার তীব্রতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
শাহনাজ আক্তারের বক্তব্য
প্রথম রানারআপ হয়ে ডা. শাহনাজ আক্তার তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকায় এমন আয়োজন সচরাচর হয় না। দেশের নদী বাঁচাতে এবং সাঁতারুদের উজ্জীবিত করতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। এই প্ল্যাটফর্মে সাফল্যের পেছনে দায়িত্বশীল ও আন্তরিক প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ সম্মানিত প্রশিক্ষক আল্লামা দিদারকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তার এই বক্তব্য প্রতিযোগিতার গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আয়োজন নতুন সাঁতারুদের উৎসাহিত করে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
সাঁতার প্রতিযোগিতা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক ক্রীড়াবিদ আমিনুল ইসলাম এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিজয়ী সাঁতারুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এই আয়োজনটি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সমন্বয়ে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই ‘জিয়া সুইমিং কার্নিভাল’ শুধু একটি সাঁতার প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের সাঁতার সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং নতুন প্রতিভাদের সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা। আয়োজকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন আরও আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।