জাতীয় পার্টির নিবন্ধন এবং দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়ে বর্তমানে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে দল থেকে বহিষ্কৃত কিছু ব্যক্তি একটি কাউন্সিল আয়োজন করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দলের নিবন্ধন ও প্রতীকের দাবি জানালে, তা আইনগতভাবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, দলের বৈধতা ও প্রতীক সুরক্ষায় অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জাতীয় পার্টির আনুষ্ঠানিক অবস্থান লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের দ্বারা আয়োজিত ওই তথাকথিত কাউন্সিল সম্পূর্ণ অবৈধ। দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই কাউন্সিলের কোনো অনুমোদন ছিল না, এমনকি জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম থেকেও এর কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি। এই অননুমোদিত কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেছে এবং জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছে যে, আগামী সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
জাতীয় পার্টির বৈধ নেতৃত্ব ও প্রতীক
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, দলের নিবন্ধন এবং বহুল পরিচিত প্রতীক ‘লাঙ্গল’ আগের মতোই গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কাছেই বহাল থাকবে। তিনি এই দাবির সপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে বিগত বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং নির্বাচিতও হয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা এবং নির্বাচনী সাফল্য প্রমাণ করে যে, আইনগতভাবে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিই দলের বৈধ উত্তরাধিকারী এবং ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের একমাত্র দাবিদার।
দাবিদারদের কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি
জাতীয় পার্টির এই জ্যেষ্ঠ নেতা অভিযোগ করেন যে, যারা দলের নিবন্ধন ও প্রতীকের দাবি করছেন, তাদের কার্যক্রম জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র এবং প্রচলিত নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এই অবৈধ দাবিদারদের কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টির বর্তমান অবস্থান এবং ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের বৈধতা নিশ্চিত করবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে দলের নিবন্ধন ও প্রতীক সংক্রান্ত চলমান সকল বিতর্ক ও বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করছেন।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের দ্বারা আয়োজিত কাউন্সিল এবং তাদের প্রতীক ও নিবন্ধন সংক্রান্ত দাবি আইনসম্মত নয়। নির্বাচন কমিশন এই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।