বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চলমান চর্চার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই ধরনের কার্যকলাপ জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং এর ফলে দেশের সামগ্রিক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জাতিকে কি আমরা অকারণে বিভ্রান্ত করছি এবং প্রতিনিয়ত বিভেদ সৃষ্টি করছি? তার মতে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা, দর্শন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা থাকা উচিত, যা তারা আগামী নির্বাচনে জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে এসে আইন প্রণয়ন করবে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সংস্কার নির্বাচন: প্রেক্ষিত জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক এক সেমিনারে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাক চেয়ারম্যান ডক্টর হোসেন জিল্লুর রহমান এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘদিনের চর্চার কথা উল্লেখ করে বলেন, কমিশনের মতামতের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করে জাতিকে পুনরায় বিভক্ত করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছে, তারা আজ অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সেই পথে যেতে পারে না। তার মতে, দেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি, যার অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে এই খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সমস্যার শেষ নেই। তাই প্রতিটি দলের উচিত জনগণের কাছে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরা। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে তারা এই চেষ্টা করছেন এবং তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। এছাড়াও, তারা বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করলেই চলবে না, অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিতে যেভাবে সমান সুযোগ এবং প্রবেশাধিকার পাবে, ঠিক একইভাবে অর্থনীতিতেও সবার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাদের প্রবেশ করতে হবে। যদি কোনো চক্র গণতান্ত্রিক না হয় এবং শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকার থাকে, তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কার্যকর হবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হবে যখন এর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিটি বিষয় সম্পৃক্ত হতে পারবে এবং তারা অংশীদার হতে পারবে।
খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, তর্ক-বিতর্ক ও বিভক্তি সৃষ্টি না করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিত। এর ফলে প্রত্যেকে মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবে এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের কথাগুলো মুক্তভাবে বলতে পারবে। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাকে তিনি মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই মূল বিষয়গুলোতে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।