জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘুণে ধরা বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হয়তো বুলেট ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে না, তবে এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা যাবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিইবি ভবনে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি) এর বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে, তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা থাকবে এবং যুবকেরা কর্মসংস্থান পাবে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, আজও সেই বাস্তবতা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তিনি ব্যর্থতার ইতিহাস থেকে সফলতার ইতিহাস রচনার আহ্বান জানান। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রকৌশল খাতের গুরুত্ব জামায়াত আমির দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি নৈতিকতাহীন, অকার্যকর এবং মেধা, সময় ও অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, যাদের হাতে শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের সন্তানরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রকৌশল ও কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীরা জাতির গর্ব। কৃষিবিদরা মৎস্য, পশুপালন ও খাদ্য উৎপাদনে যে অবদান রাখছেন, তাতে দেশ সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান বিশ্বাস করেন যে, পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল পেলে এই খাত আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যারা সবচেয়ে মেধাবী, তারা প্রকৌশল খাতে কাজ করলেও জাতি কেন এর সুফল পাচ্ছে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল খাত পিছিয়ে পড়ার পেছনে তিনি পাঁচটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন: পরিকল্পনার অভাব পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ভিশনের অভাব সাহসের অভাব প্রচেষ্টার অভাব দুর্নীতি দমন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াত আমির তার দলের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাদের দ্বিতীয় অঙ্গীকার হলো দুর্নীতির জোয়ার কেটে দেওয়া। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইনসাফের ভিত্তিতে যার যা পাওনা, তা তার হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং ঘুষ ও অবৈধ সম্পদের অবসান ঘটানো হবে। তার মতে, এর মাধ্যমে জাতির অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ সহ গোপন নির্যাতন কেন্দ্রের সংস্কৃতি প্রবর্তন করা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো ছিল না। গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিডিয়া জাতির দর্পণ এবং সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলতে হবে, এমনকি যদি সেটি তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেও যায়। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজনীতিবিদদের দুটি এবং সাংবাদিকদের তিনটি কলিজা লাগে। তার মতে, সত্য ও সাহসী সাংবাদিকতাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে। জামায়াত আমির আরও বলেন, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধ তাদের মর্যাদার চেয়েও বড় হতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি তারা ক্ষমতায় যান, তাহলে জনগণকে তাদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামতে হবে না; ইনসাফের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে কামড়াকামড়ি না করে ইতিবাচক কর্মসূচি ও গঠনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিকে আশার আলো দেখাতে হবে।