বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, দেশে বর্তমানে একটি নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে, তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ১২ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন পরিস্থিতি

জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশকে বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার থেকে মুক্ত করেছে। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, যা সংবিধান মেনেই শপথ গ্রহণ করেছে। ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা গণতন্ত্রকামী দলগুলো ইতিবাচক দেখছে। তবে কিছু দল ক্ষমতার মোহে এই নির্বাচনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে, শুধু তফসিল ঘোষণা বাকি।

জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক মতবিরোধ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অধিকাংশ দল একমত হলেও কিছু ভিন্নমত রয়েছে। সৈয়দ এহসানুল হুদা আশু বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো নির্বাহী আদেশে দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মৌলিক সংস্কার পরবর্তী সংসদ সম্পন্ন করার প্রস্তাব করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস জাতীয় সংকটে সবাইকে ডেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান যেন সবাই তার সঙ্গে আছেন। যারা বিতর্ক করছেন, তারা আইনি নিশ্চয়তা চাচ্ছেন।

পিআর পদ্ধতি ও নির্বাচন পেছানোর কৌশল

পিআর পদ্ধতি, গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এবং আন্দোলনকে সৈয়দ এহসানুল হুদা ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে দলের নেতৃত্বে এই আন্দোলন হচ্ছে, তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে, অথচ একদিকে তারা নির্বাচন হতে দেবে না বলছে। এটিকে তিনি নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার কৌশল বলে মনে করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণই তাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আদায় করে নেবে। জামায়াতে ইসলামীসহ আরও সাতটি দল পিআর পদ্ধতির ব্যাপারে আন্দোলন করছে এবং হুমকি দিচ্ছে যে পিআর ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। সৈয়দ এহসানুল হুদা এটিকে স্বৈরাচারী ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন বিলম্বের পরিণতি ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে বলে সৈয়দ এহসানুল হুদা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে, বিনিয়োগ স্থবির হবে, হতাশা বাড়বে এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তিনি দেশে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। তবে তার নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে। বেনজির ভুট্টোর হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন, শিগগিরই তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরবেন।

কূটনৈতিক মহলের মনোভাব

কূটনীতিকরা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং সম্পর্কোন্নয়নের স্বার্থে একটি নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান। তারা চান, সব দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদটি বাস্তবায়িত হোক এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হোক।