বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। ডা. জাহিদ উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান শুধু বিএনপির নেতৃত্বই দেবেন না, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জড়িত সকল মানুষের নেতা হিসেবেও ভূমিকা পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে শুধু বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন না, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লগ্নের নেতৃত্বও দেবেন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবেন। এই ঘোষণাটি বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব) কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও দলের অবস্থান

দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং এর মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা উপলব্ধ আসনের চেয়ে দশগুণ বেশি। তিনি জানান, কে প্রার্থী হবেন বা কে হবেন না, সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে নেওয়া হবে। এছাড়াও, দলের পক্ষ থেকে পরিচালিত জরিপ এবং জনগণের ভালোবাসায় নিজ নিজ এলাকায় উদ্ভাসিত ব্যক্তিরাই প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত অনুমানভিত্তিক সংবাদের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, গত পরশু দলের মুখপাত্র রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, দল কাউকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা ‘রেড সিগন্যাল’ দেয়নি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনগণের অধিকার ও রাজনৈতিক সমালোচনা

ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন যে, বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার ছিল, আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় বলতাম স্বৈরাচারের দোষর কারা ছিল। ৮৬ তেও দেখেছেন, এখনো দেখছেন। কাজেই আপনাদের সজাগ থাকতে বলবো। দেশের মানুষ দেখছে যে, সত্যিকার অর্থে স্বৈরাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কাদের রয়েছে।”

আওয়ামী লীগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, “এই দলের ইতিহাস, এই দলের নেতাদের ইতিহাস কোনো দিনই জনগণের পক্ষে ছিল না। ওনারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। ওনারা জনগণের ভালোবাসা অর্জন করার চেয়ে জনগণের ওপর চেপে বসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ওনারা দেশকে মনে করেন তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। যেমনি ইচ্ছা অমনি ওনারা চালালে দেশবাসী খুশি হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই অন্যায় ওনাদের পূর্বপুরুষরাও করেছেন, ওনারাও করেছেন। তবে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, শেষ বিচারের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন। মাঠে আসেন, আপনাদের সত্যিকারে কীভাবে প্রতিহত করতে হয়, প্রত্যাখ্যান করতে হয় জনগণ তা জানে।”

তিনি দেশের মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, জনগণ সত্যিকার অর্থে স্বৈরাচারের সঙ্গে কাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে তা দেখছে।

ডা. জাহিদ হোসেনের এই মন্তব্যগুলো বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তিনি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন গতি আসার ইঙ্গিত দেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।