চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সদস্যসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় যুবশক্তি নেতা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে।
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে যুবশক্তির এই নেতা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরিটি (নম্বর- ২২৯৭) নথিভুক্ত করেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই সাধারণ ডায়েরি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও হুমকির প্রেক্ষাপট
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই হামলার প্রতিবাদে জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রতিবাদ সমাবেশে হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। বক্তারা এই ধরনের হামলার পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
হুমকির কারণ ও ধরণ
জিডিতে আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিবাদ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি চট্টগ্রামে মিছিল ও গুপ্ত হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সামদানি জনিকে দায়ী করে কথা বলা হয়। এই বক্তব্যের পর থেকেই হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনে হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদকে হুমকি প্রদান করে। এই হুমকিগুলো তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ এই বিষয়ে বলেন, “এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল সমাবেশ করেছি। এরপর থেকেই আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইলে কল করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কতিপয় ক্যাডাররা হুমকি দিয়ে আসছে। তাই আমি সাধারণ ডায়েরি করেছি। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে এবং আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুবশক্তির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা এই ধরনের হুমকির মুখেও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করবেন। এই জিডি দায়েরের মাধ্যমে ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।