জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে। দলটি শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলাকে প্রতীক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে, ইসি ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীক হওয়ায় এটিকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তফসিলভুক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনসিপি এই সিদ্ধান্তকে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এনসিপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে ইসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে আসছে। ইসি নতুন নির্বাচনী প্রতীক তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে, এনসিপির প্রতিনিধিদল ইসির এক বৈঠকে ‘শাপলা’ প্রতীক চূড়ান্ত তালিকায় থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছিল। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে, এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে এবং ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণের জন্য আবেদন জানায়। এনসিপির আবেদনের পর থেকেই জনসাধারণ শাপলাকে দলটির প্রতীক হিসেবে চিনতে শুরু করে।
ইসিসির সিদ্ধান্ত এবং এনসিপির প্রতিক্রিয়া
তবে, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে এনসিপি জানতে পারে যে, ইসি ‘শাপলা’-কে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তফসিলভুক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসি সংবাদমাধ্যমকে জানায় যে, ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীক হওয়ায় এটি বিধিমালার তফসিলভূক্ত করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর, এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে ইসিকে জানায় যে, ‘শাপলা’-কে জাতীয় প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ইসির ব্যাখ্যা আইনানুগভাবে সঠিক নয় এবং এই অবস্থানের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর এবং নিবন্ধনের সব শর্ত প্রতিপালন করায় ইসি জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি-কে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে, ইসির সিনিয়র সচিব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার প্রতীক তালিকায় ‘শাপলা’-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এ কারণে এনসিপি-কে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এনসিপি নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যকে স্বেচ্ছাচারী, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ইসির এমন কার্যকলাপে নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। এনসিপি আশা করে, ইসি ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি’র অনুকূলে শাপলা, সাদা শাপলা, অথবা লাল শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে। তারা প্রত্যাশা করে যে, ইসি পূর্বের মনোভাব পরিত্যাগ করে এমনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে তাদের আগ্রহ জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।